April 19, 2026, 1:38 pm

কিল্লারপুলে ফ্লিমস্টাইলে নারীকে রাস্তায় ফেলে হত্যার চেষ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নারায়নগঞ্জ সদর থানাধীন কিল্লারপুলে ফ্লিমস্টাইলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এক নারীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে মারধোর সহ প্রানে মেরে ফেলোর চেষ্টা করে। এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে প্রানে বেঁচে গেলেও প্রান ভয়ে ভীত সে নারী।

নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুল মোড়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে এক নারীকে উপুর্যপুরী পিটিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আহতবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১০ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, কিল্লারপুল এলাকার এনায়েত আলী চিশতিয়া মাজারের প্রধান খাদেম হিসেবে দেখাশোনা করে আসছিল মোছাম্মৎ মাহবুবা আক্তার নুপুর।

মাজার নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের হিসেবে ২২ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় সন্ত্রাসী ইরান, রিপন, হুজুল, ফারুক, আমির, মনির, লাদেন, নিক্কাত, রনি ও আহমদ মিয়া দুপুর সাড়ে বারোটায় মাজারের ভিতরে প্রবেশ করে দান বাক্স লুট করার চেষ্টা চালায় এবং মাজারের তালা ভেঙ্গে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় মাহবুবা আক্তার নুপুর তাদের বাধা প্রদান করলে সন্ত্রাসীরা নুপুরের উপর ক্ষিপ্ত হলে নুপুর ভয়ে কিল্লারপুলের একটি মোবাইলের দোকানে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে সন্ত্রাসীরা নুপুরকে টেনে হেঁচড়ে দোকান থেকে বের করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে উপর্যুপরি লাঠিসোটা এবং ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এসময় নুপূরের সঙ্গে থাকা নগদ ১৬ হাজার টাকা, ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি বেসলাইট ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজনও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কাছে আসেনি। নুপুরকে মারধর ও ছুরিকাঘাতের পর জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায় এবং মামলা মোকদ্দমা করলে যে কোন সময় দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে নুপুরের আত্মীয়স্বজন খবর পেয়ে দৌড়ে ছুটে এসে নুপুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা গ্রহণ করে আহত নুপুর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায়।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা